প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ওয়াশিংটন/ঢাকা, ১৫ এপ্রিল ২০২৬: ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফ-এর স্প্রিং মিটিংস থেকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত ভেসে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, বিশেষ করে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রেক্ষিতে সংস্থাটি তাদের সবশেষ পূর্বাভাসে জানিয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে মাত্র ২ শতাংশে। ১৯০০ সালের সেই সীমিত অর্থনীতির যুগ থেকে ২০২৬ সালের এই জটিল গ্লোবাল চেইন—সবকিছুই এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে অর্থাৎ ১৯০০ সালের দিকে বিশ্ব অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষি ও কয়লানির্ভর। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমরা দেখেছি কীভাবে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়েছিল। ১৯০০ থেকে ১৯৪৭, এরপর ১৯৭১—প্রতিটি বড় যুদ্ধের পর বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন করে সাজাতে হয়েছে। ২০২৬ সালের এই আধুনিক যুগে আইএমএফ-এর পূর্বাভাস বলছে, যুদ্ধের প্রভাবে আগামী বছরে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ১৯০০ সালের সেই ধীরগতির বাজার আজ ২০২৬ সালের এই হাই-টেক ‘রিয়েল টাইম’ ইকোনমিতে কয়েক সেকেন্ডের যুদ্ধেই ধসে পড়তে পারে।
আইএমএফ-এর বিশ্লেষণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে:
তেল উৎপাদনকারী দেশ: মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো সরাসরি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায় তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উন্নয়নশীল দেশ বনাম যুক্তরাষ্ট্র: উন্নয়নশীল দেশগুলোর (যেমন বাংলাদেশ) ওপর অর্থনৈতিক চাপের তীব্রতা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। এটি ২০২৬ সালের এক অসম অর্থনৈতিক যুদ্ধের সংকেত।
মূল্যস্ফীতির থাবা: যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হবে, তার ফলে পণ্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।
গুগল এনালাইসিস এবং ২০২৬ সালের গ্লোবাল ইকোনমিক ডাটা অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা সরাসরি উন্নয়নশীল দেশগুলোর পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ১৯০০ সালের সেই সাধারণ জীবনযাত্রা আজ ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল বাংলাদেশে এসেও বিশ্ববাজারের দয়ার ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এখন প্রধান ‘পাইপলাইন’ হওয়া উচিত বিকল্প জ্বালানি উৎস এবং স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি। গাধার মতো কেবল ঋণের ওপর নির্ভর না করে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ‘সিস্টেম’ গড়ে তোলাই হবে সময়ের দাবি।
উপসংহার: যুদ্ধ কেবল প্রাণহানি ঘটায় না, এটি একটি প্রজন্মের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। আইএমএফ-এর এই সতর্কবার্তা ২০২৬ সালের নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় সংকেত। ভূ-রাজনৈতিক সংকটের এই ঝোড়ো হাওয়া থেকে বাঁচতে হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নিজস্ব সক্ষমতা ও সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করতে হবে। ১৯০০ সালের সেই সংগ্রামের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০২৬ সালের আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে বৈশ্বিক মন্দার কবলে পড়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।
সূত্র: আইএমএফ স্প্রিং মিটিংস রিপোর্ট (এপ্রিল ২০২৬), ওয়াশিংটন পোস্ট ইকোনমিক ডেস্ক, বিশ্বব্যাংক গ্লোবাল আউটলুক, প্রথম আলো বিজনেস নিউজ এবং ২০২৬ সালের গুগল ইকোনমিক ট্রেন্ডস রিপোর্ট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |